খোরশেদের কারাজীবন: ৪ মাস ফাঁসির সেলে বন্ধি, ৪০ হাজার টাকায় দুটি মশার কয়েল!

ডেস্ক রিপোর্ট, সান নারায়ণগঞ্জ

স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার অবৈধ সরকারের আমলে ব্গিত সাড়ে ১৫টি বছর কি অসহনীয় নির্যাতন চলেছে সেই নির্যাতনের খন্ডচিত্র তুলে ধরেছেন রাজপথের অকুতোভয় এক নির্যাতিত নিপীড়িত সৈনিক, শত হামলা মামলা জেল জুলুমের শিকার মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৪বারের নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি।

তার জীবনের গত সাড়ে ১৫টি বছরের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বাড়িছাড়া বনবাদারে নয়তো জেলখানায়, নতুবা আত্মগোপনে। রাজপথ থেকে একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে মাসের পর মাস জেল খেটেছেন তিনি। ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে তাকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই গুলির নির্দেশ ছিল পুলিশের। দুঃসহ সময়গুলোর একটি অংশের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তার ফেসবুক ওয়ালে। সেখানে তিনি কারাগারে মশার কামড় থেকে বাঁচতে দুটি মশার কয়েল কিনতে ৪০ হাজার টাকার কথাও তুলেছেন।

২০ মার্চ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সেই চিত্র তুলে ধরেছেন মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, যিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আগামীর কর্ণধার।

তিনি লিখেছেন, ‘আজ ২০ শে মার্চ। (২টা মশার কয়েলের দাম ছিল ৪০ হাজার টাকা)।
২০১৮ সালের এইদিনে আদর্শ স্কুলে স্মার্ট এনআইডি কার্ড বিতরণের সময় ডিবি ও ফতুল্লা থানা পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে হাতকরা লাগিয়ে কোর্টে আনে। আমাকে গ্রেপ্তারের সময় পাশের স্কুলে (আমার মায়ের নামে প্রতিষ্ঠিত কিন্তু আমাদের স্কুলের কোন অনুষ্ঠানে দাওয়াত করা হতো না বিএনপি করি বলে)। শামীম ওসমান সেই স্কুলে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করছিলেন, লোক মুখে শুনেছি সেখানেই নাকি স্থানীয় ২জন ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ নেতার সুপারিশে আমাকে গ্রেপ্তারের সিদ্ধান্ত হয়। আমি তখন নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সভাপতি ও সিটি করপোরেশন কাউন্সিলর।’

‘অভিযোগ ছিল আমি নাকি বাকশালীদের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কুটক্তি করেছি। কিন্তু একরাত ফতুল্লা থানার হাজতে থাকার পরে ৫টা পেন্ডিং মামলায় কোর্টে চালান করা হলো। এবারের গ্রেপ্তারের পরে আমাকে আরো ১০টা মামলায় এরেস্ট দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সদর থানা, ফতুল্লা থানা, রূপগঞ্জ থানা, সোনারগাঁও থানায় রিমান্ডে নেয়া হয়। সদর থানার ৩ দিনের রিমাণ্ডে থাকার সময় ২টা মশার কয়েল কিনতে হয়েছিল যে ওসি (অপারেশন) কে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে, সেই ওসিকে সম্প্রতি টেলিভিশনে দেখলাম পার্শ্ববর্তী জেলার এক থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে। ৫ বার জেল গেটে গ্রেপ্তার করে আরো ৫ মামলায়। মোট ২০ মামলায় ৪ মাস কারাগারে থাকতে হয়েছে। পুরো ৪ মাস ফাঁসির সেলে বন্ধী ছিলাম ‘

‘জেলগেটে গ্রেপ্তার এড়াতে হাইকোর্ট থেকে নো এরেস্ট, নো হেরেস্ট অর্ডার এনে কোরবানি ঈদ, স্বাধীনতা দিবস সহ আরো কয়েকটি জাতীয় দিবস কারাগারে কাটিয়ে ৪ মাস পরে মুক্তি পাই। তবে এবারের জেল সফরে বড় একটা অর্জন ছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস ভাইয়ের সাথে বিশেষ সখ্যতা ও কিছু কাজ করার, যা আরেকদিন লিখবো ইনশাআল্লাহ। এখন যখন নিয়মিত টেলিভিশনে পত্রিকায় দেখি আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের হাতকড়া পড়িয়ে কোর্টে আনে তখন মনে কিছুটা শান্তি লাগে। হাসবুনাল্লাহু ওয়া নিমাল ওয়াকিল।’