সান নারায়ণগঞ্জ
নির্বাচনের ঘোষণা করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির রাজনীতিতে এক সময়কার দাপটশালী নেতা শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর জেলা ও ফতুল্লা থানা বিএনপির শীর্ষ থেকে পদত্যাগ করে সক্রিয় রাজনীতি থেকে চুপসে থাকলেও তিনিই নির্বাচনকালীন সময়ে মাঠের রাজনীতিতে ফিরবেন এমন আলোচনা ছিল সব সময়ই। পবিত্র ঈদ উল ফিতর উপলক্ষ্যে ফতুল্লা থানা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে নির্বাচনের ঘোষণা করেছেন শাহআলম। সেখানে তিনি নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিএনপি থেকে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি এও বলেছেন, আমি যদি নির্বাচন করি তাহলে আমিই দলের মনোনয়ন পাবো। আমি নির্বাচন করবো। কিছু নেতাকর্মী এদিক সেদিক চলে গেলেও ফতুল্লার নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গেই আছেন। তিনি সন্ত্রাসী চাঁদাবাজি দখলবাজির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নন। তার নেতাকর্মীরা এসব থেকে দূরে থাকায় তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, রাজনীতি মানুষের উপকারের জন্য। উপকার করতে এসেছি, মানুষকে কিছু দিতে এসেছি, নিতে আসিনি। কখনও রাজনীতি করে দল থেকে কিছু নিবো সেই আশা করিনি। জনগণের কল্যাণেই হবে আমার ও আমাদের রাজনীতি।
৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার ফতুল্লা থানাধীন তার নিজ বাসভবনে শাহআলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করতে যান তার অনুগামী বিএনপির নেতাকর্মীরা। সেখানে তিনি এসব কথা বলেছেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লৎফুর রহমান খোকা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এমএ আকবর, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট জাহিদ হাসান রুবেল সহ অন্যান্যরা। তবে বেশকদিন যাবত শাহআলমের হয়ে এসব নেতাকর্মীরাসহ জাহিদ হাসান রুবেল ও বিএনপি নেতা শাহজাহান আলী কাজ করে আসছেন। তারা দাবিও তুলেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে শাহআলমকে এমপি হিসেবে দেখতে চান।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে শুধুমাত্র ফতুল্লা থানা এলাকা নিয়ে গঠিত হয় নারায়ণগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনটি। ওই নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থী সারাহ বেগম কবরীর সঙ্গে পরাজিত হোন শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহআলম। সামান্য কিছু ভোটে শাহআলমকে ফেল দেখানো হয়েছিল বলে সে সময় তিনি দাবি করেন। বিএনপি দাবি করে আসতো সেই নির্বাচনে ভোটে শাহআলম জয়ী হোন।
২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলনে সিনিয়র সহ-সভাপতি নির্বাচিত হোন শিল্পপতি মুহাম্মদ শাহ আলম। একই সঙ্গে মাস দুয়েক পর ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি গঠন করা হলে সেখানে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হোন। ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হোন আবুল কালাম আজাদ বিশ্বাস। আজাদ বিশ্বাসও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও পরের কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪(ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে ঐক্যফ্রন্টের মনোনয়ন পান জমিয়েত ওলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী।
নির্বাচনের পর জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন শাহআলম। তবে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদে বহাল থাকেন। পদত্যাগের এক দিনের মাথায় শাহআলমের অনুগামীদের দিয়েই ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করেন তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান মনির ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহামুদ। ওই কমিটিতে শাহআলমের ঘনিষ্ঠজন আজাদ বিশ্বাসকে আহ্বায়ক ও নজরুল ইসলাম পান্না মোল্লাকে সদস্য সচিব পদে রাখা হয়।
সেই থেকে শাহআলম রাজপথের রাজনীতি থেকে নীরব হয়ে যান। তবে নেতাকর্মীদের দিয়ে রাজপথে আন্দোলন সংগ্রাম করিয়েছেন। তার অনুগামী নেতাকর্মীরা শাহআলমের ব্যানারে রাজনীতি করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে ফতুল্লা থানা বিএনপির কমিটিও শাহআলমের হাতছাড়া হয়ে যায়। গত ৫ আগস্টের পর থেকেই আলোচনায় ছিলেন শাহআলম আবারো রাজনীতির মাঠে থাকবেন। তিনি তার শুভাকাঙ্খী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে সর্বত্র যোগাযোগ রেখেছেন এবং জানিয়েছেন তিনি নির্বাচনী মাঠে নামবেন। এমনটা আচ করতে পেরে ইতিপূর্বে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দীন ফতুল্লার এক সমাবেশে শাহআলমকে নিয়ে কটাঙ্খ করে বক্তৃতাও দিয়েছিলেন। তবে এবার শাহআলম নির্বাচনী মাঠে নামায় গিয়াসউদ্দীনের সম্ভাবনা একেবারেই ফিকে হওয়ার পথে।
ভিন্নসূত্রে জানাগেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর গিয়াসউদ্দীন ও গোলাম ফারুক খোকনের নেতৃত্বাধীন জেলা বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পেছনে শাহআলম ও কাজী মনিরুজ্জামানের হাত রয়েছে। মুলত পরিকল্পনা করেই জেলা বিএনপির কমিটি ভাঙ্গানো হয়েছে। জেলা বিএনপির দুই নেতার কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড খোদ তারেক রহমানের হাতে তুলে দেয়ার ব্যবস্থাও করেছেন শাহআলম ও কাজী মনির। বর্তমান জেলা বিএনপির কমিটি গঠনের পেছনে শাহআলম ও কাজী মনিরের একচ্ছত্র হাত রয়েছে সেটা প্রায় নিশ্চিত। সুতরাং পেছন থেকে শাহআলম ও কাজী মনির ছড়ি ঘুরাচ্ছেন জেলা বিএনপির ঘাড়ে। সেক্ষেত্রে সামনের জাতীয় নির্বাচনে কাজী মনির ও শাহআলম তাদের নিজ নিজ আসনে মনোনয়ন পেতে সহায়ক হয়ে ওঠবে জেলা বিএনপি। ফলে গিয়াসের সম্ভাবনা একেবারেই শেষ বলা চলে। এরি মাঝে অভিযোগ তদন্ত কমিটি ও তদন্ত কমিটির সুপারিশে গিয়াসের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করায় গিয়াস ক্ষিপ্ত হয়ে দলের বিরুদ্ধে পাল্টা নানা অভিযোগ তুলে বলেন, নমিনেশন নির্বাচনে কেনা বেচা হয়।