সান নারায়ণগঞ্জ
নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজারে বিএনপির ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার বলতে একমাত্র প্রয়াত নেতা এএম বদরুজ্জামান খান খসরুর পরিবারকেই বুঝানো হতো। সেই পরিবারের উত্তরসূরী মাহমুদুর রহমান সুমন রাজনীতিতে এখন কোণঠাসা। তারও পেছনে পড়ে আছেন একাধিকবারের সাবেক এমপি এম আতাউর রহমান খান আঙ্গুর যিনি প্রয়াত খসরুর ভাই। বর্তমানে প্রয়াত নেতা খসরু, আঙ্গুর ও সুমনের অনুগামী নেতাকর্মীরা ভীড়েছে নজরুল ইসলাম আজাদের ডেরায়। আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে চাচা ভাতিজা এতটাই ব্যাকফুটে যে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ধানের শীষ পান নজরুল ইসলাম আজাদ।
স্থানীয়দের সূত্রে, প্রয়াত নেতা এএম বদরুজ্জামান খান খসরু তার মৃত্যুকালেও ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি। তার মৃত্যুর পর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে দায়িত্ব নেন তারই ছেলে মাহমুদুর রহমান সুমন। সুমন পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হোন। বর্তমানে তিনি কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে আছেন। অনেকটা জোর করেই আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হয়ে দায়িত্ব নিলেও নেতাকর্মীরা তার আচার আচরণে তার প্রতি আকৃষ্ট হতে পারেননি। যে কারনে দিনকে দিন নেতাকর্মীরা খসরুর পরিবারের রাজনীতি থেকে নজরুল ইসলাম আজাদের বলয়ে ভীড়তে থাকেন। আজাদ বর্তমানে কেন্দ্রীয় বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদে আছেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, আড়াইহাজারে বিএনপিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন খসরু। একটি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি পদধারী আতাউর রহমান খান আঙ্গুরকে বিএনপিতে যোগদান করিয়ে দলের মনোনয়ন পাইতে দেন খসরু। আঙ্গুর এমপি হওয়ার পর ভাই খসরুর সঙ্গেই পল্টি দিতে থাকেন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আড়াইহাজারে খসরু ও আঙ্গুরের নামে দুটি বলয়ে বিভক্ত ছিল আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি।
হাবিবুর রহমান হাবুকেও অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকে এনে বিএনপি নেতা বানিয়েছেন খসরু। এমনকি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বানানো হয় তাকে। কিন্তু পরে খসরুর সঙ্গে পল্টি দিলে তাকে অব্যাহতি দিয়ে আবুল কাশেম ফকিরকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকও করা হয়েছিল সেই সময়। সেই সময় আড়াইহাজারে বিএনপির রাজনীতিতে আজাদ কিংবা সুমনের ছায়াও ছিল না। আজাদের উত্থান ঘটে জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি তৈমূর আলম খন্দকারের আশীর্বাদে আড়াইহাজারে প্রবেশ করানোর সুযোগ দেয়ার মাধ্যমে।
বর্তমানে সেই আজাদ এখন আড়াইহাজার ছাড়িয়ে জেলা বিএনপি নিয়ন্ত্রকদের মধ্যে একজন। আজাদের মুঠোবন্ধি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটি। তার ঘনিষ্ঠজন ইউসুফ আলী ভুঁইয়াকে সভাপতি ও জুয়েল হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক বানিয়ে নিজের মুঠোবন্ধি করেছেন আজাদ। এর আগে ২০০৯ সালে আড়াইহাজার ছেড়ে ঢাকায় গিয়ে ব্যবসা বানিজ্যে ব্যস্ত ছিলেন ইউসুফ আলী। প্রায় এক যুগ পর ২০১৯ সালে জেলা বিএনপির কমিটিতে সদস্য পদে আসার মাধ্যমে আবারো নারায়ণগঞ্জে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন ইউসুফ আলী।
অন্যদিকে খসরুর পরিবারের রাজনীতি আকড়ে ধরে বিপাকে পড়েছেন আবুল কামেশ ফকির, মীরজুল হাসান নয়ন মোল্লার মত নেতারা। হাবিবুর রহমান হাবু কখনও আজাদ বলয়ে আবার কখনো সুমন বলয়ে রাজনীতিতে আসেন। কিন্তু সুমনের রাজনৈতিক অদক্ষতার কারনে দিনকে দিন আড়াইহাজারে শক্ত অবস্থানে যাচ্ছেন আজাদ। যার দূরণ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে এই আসন থেকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে দলের মনোনয়ন পান আজাদ। আন্দোলন সংগ্রামে আজাদ যেখানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেখানে চাচা আঙ্গুর ও ভাতিজা সুমনের দেখাও মিলেনি রাজপথে। ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবার খসরুর পরিবারের রাজনীতি টিকিয়ে রাখতেই আজাদের সামনে দূরহ হয়ে পড়েছেন আঙ্গুর ও সুমন।