লাঙ্গলবন্দের ব্রহ্মপুত্র নদে স্নানোৎসবে পুণ্যার্থীর ঢল

সান নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের ব্রহ্মপুত্র নদে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব চলছে। এতে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল নামে। ৫ এপ্রিল শনিবার দিনব্যাপী বন্দরে লাঙ্গলবন্দ এলাকায় ২০টি ঘাট দিয়ে এক যোগে স্নান উৎসব পালিত হয়েছে।

৪ এপ্রিল শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ৮ মিনিট থেকে হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মহাঅষ্টমী স্নানোৎসব। পাপমোচনের এই স্নানোৎসব শেষ হবে শনিবার দিবাগত রাত ১২টা ৫১ মিনিটে। মন্ত্র পাঠ করে ফুল, বেলপাতা, ধান, দূর্বা, হরীতকী, ডাব, আম্রপল্লব নিয়ে পুণ্যার্থীরা স্নানে অংশ নেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ‘এদিন ভোর থেকেই পুণ্যার্থীর ঢল নামে লাঙ্গলবন্দের তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। পাপমোচনের বাসনায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পুণ্যার্থীদের পদচারণনায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। পুরো এলাকাজুড়ে মেলার নানা দোকান বসেছে। দুপুরে লাঙ্গলবন্দের স্নানোৎসব পরিদর্শন করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার সহ সংশ্লিষ্টরা পুরো এলাকা দফায় দফায় পরিদর্শন করেন ও নানা বিষয়ে খোাঁজখবর নেন।

বন্দরের বাবুপাড়া এলাকা থেকে স্নান উৎসবে অংশগ্রহণ করতে বাবার সাথে এসেছেন রাণী দাস। তিনি বলেন, বাবার সাথে স্নান উৎসবে এসেছি। সবার প্রথমে স্নান করেছি। এরপর মেলা ঘুরে ঘুরে নানা জিনিসপত্র কিনেছি। সারা দিন অনেক মজা করেছি।

ফতুল্লা থেকে স্নান উৎসবে বন্ধুদের সাথে এসেছেন বিশ্বজিৎ দাস। তিনি বলেন, আমার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে স্নান করতে এসেছি। স্নান শেষে ধর্মীয় নানা রীতি পালন করে মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে মেলায় ঘুরতে যাবো।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শিপন সরকার শিখন বলেন, পাপ মোচনের উদ্দেশ্যে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ পুণ্যার্থীরা স্নানোৎসবে অংশগ্রহণ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য দুটি ড্রোন, মেটাল ডিটেক্টর রয়েছে। পুলিশ ও নৌ-পুলিশ মিলিয়ে প্রায় ১৫০০ জন, কোস্টগার্ড টিম, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরি দল, বিআইডব্লিউটিএ’র একটি ডুবুটি টিম, র‌্যাব, সেনাবাহিনীর টিম ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছে। সাদা পোশাকের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রয়েছে। ৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ৭টি ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। ৪৭১ জন আনসার সদস্য সহ স্বেচ্ছাসেবক টিম রয়েছে।

বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি খাবারের জন্য সেবা ক্যাম্প, সুপেয় পানি, চিকিৎসা ক্যাম্প, বাথরুম সহ সব ধরনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসক সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নানা বিষয়ে নজরদারি করছেন। আশা করি, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে উৎসব সম্পন্ন হবে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, লাখ লাখ পুণ্যার্থী স্নানোৎসবে অংশগ্রহণ করেছেন। সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে উৎসব পালিত হচ্ছে। রাতে স্নানোৎসবের লগ্ন শেষ হবে।